Friday, April 3, 2015

আশিকুরের বোনেরা

প্রান্তর আর দীর্ঘ মেঠৌপথের পরে, সিংহ দরজার এই নগরে
আমার নামে প্যাগোডা ও গির্জায়,মসজিদ ও মন্দিরে দিনদুপুরে কে মহাবীর যুধিষ্ঠির বলে জয়ধ্বনি করে?
আমি এ মাঠ থেকে ও মাঠ, এ হাট ও হাট করে ঘরের ছেলে আমি নাই ঘরে| দুনিয়ার বাজার সেরে পদ্মলোচন আমি, মাথা আমার ঘোরে|
পাখির গান, বনের ফুল আর মাঠের ফসলের পরে আহূত ঋতুর খবর বয়ে আনা বাতাসের বাহুডোরে সে কবেকার স্মৃতি মনে কি আর পড়ে?

কে মনে রাখে, কে কোথায় কবে কাকে ভাই বলে ডাকে কার গায়ে পিঠে লেগে একই জল ও কাদায় অনেক বেলা অবেলা একসাথে খেলা আর একসাথে চলা|
ও এমন কিছু না, প্রথম জীবনে অনেকে প্রেমে টেমে পড়ে সেই সাথে কবিতার খাতায় আঁকিবুকি করে, ইদানীং অই অক্ষরে ফেসবুক টুইটারে টেনে আনি জীবনানন্দরে|
অন্তর হারিয়ে অন্তরজালে কবিতার দুই এক লাইন যুথসই লাগিয়ে দিতেই পারে, দিলেই হলো, এরকম করে যদি ইনিয়ে বিনিয়ে প্রেমের কথা যায়তো বলা হয়ে|
তাতে কি? প্রেম, কবিতা এসব দিয়ে কি আর জীবন চলে? আমি এখন দেশ নয়, এক এক করে দুনিয়ার মাঠ চষে খ্যাতির হিসেব কষে লড়াকু এক ছেলে|
কত মাঠে পরাক্রম কত লড়াকু বধ করি, কতজনের ঘুম হারাম করি, কত দেশে কত বেশে লেফট রাইট লেফট ফলিয়ে বীর বেশে ঘুরি নিজেরে বাঘ মনে করে জগতের খেতা পুড়ি|
জগতের নেশায় আর মাটিতে পরে না পা আমার, মন চায় আকাশেই উড়ি, লাটাই হারিয়ে নিজে আজ ঘুড়ি আহা! আমারই ভাইয়ের ঘাড়ে কে মারল ছুড়ি?
বলো তো কি করি? আইফোন টুইটারে ঝাড়িঝুরি মারি: বীর ভোগ্য বসুন্ধরা! নিজের ধরটা থাকে কি না নিজের গারে এই চিন্তায় মাথা ঝিমঝিম করে|
কে মারল থাপ্পর আমার দুই গাল কষে হাজার লোকের মেলে? কে বলে ওঠে, এই বোকার ছাও, তোর ভাইয়ের ধর দিল ফেলে, তুই বসে আছিস কোন আক্কেলে?
নগরের বেগুনবাড়ির মোড়ে ওরা খুনিদের পাকড়াও করে; থতমত খেয়ে মাথা তুলে কই, এমন সুপারম্যান তোমরা কারা? যখন নগরের বীরেরাও মুখে নলিপপ পুড়ে?
নগরের মেয়র আর হাজার জনতার দিকে তারা আঙুল তুলে কয় নগরে সুপারম্যান বলে কিছু নেই, তোমরা কাপুরুষ সকলে, আমরা আশিকুরের বোন, ডাকো হিজড়া বলে| #
উপসালা: ২০ চৈত্র ১৪২১
উপসালা: ৩রা এপ্রিল ২০১৫

1 comments:

othoy said...

Your poem concept is really strong enough. Please continue writing at this style. I am sure you can go a long way. I read poems here-
http://atnewsbd.com/Literature

Post a Comment